অতিমারি এসে প্রবলভাবে বদলে দিয়েছে চারপাশের চেনা জগৎটাকে। বদলে যাচ্ছে স্বপ্নও। পায়ে গাড়ির চাকা, উড়ে উড়ে কয়েকশো মাইল দূরের বাড়িতে চলেছেন লকডাউনধ্বস্ত পরিযায়ী শ্রমিক। চিড়িয়াখানায় চিকিৎসা করছেন মানুষের ডাক্তার। স্বপ্নেই দেশবিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভ্রমণপিপাসু মানুষ। আম্পানবিধ্বস্ত সুন্দরবনে বাঘের পিঠে চড়ে রিলিফ ক্যাম্পে পৌঁছে যাচ্ছে তরুণ ছাত্র। হাসপাতালের ঝাড়ুদারের স্বপ্নে চলে আসছে করোনায় মৃত অসংখ্য মানুষের লাশ! বাস্তবে আসার অনেক আগে রাশিয়ার কোভিড ভ্যাকসিন সাংবাদিকের স্বপ্নে এদেশে পৌঁছে যাচ্ছে স্পুটনিক মহাকাশযানে চেপে। গত দেড় বছরের এইসব স্বপ্নের গভীরে ডুবে যেতে যেতে পাঠক থমকে যাবেন হঠাৎ। টাইমমেশিনে চড়ে পৌঁছে যাবেন খ্যাত অখ্যাত নানা চরিত্রের আশ্চর্য স্বপ্নের দেশে। মহাশ্বেতা, সুনীল, বিকাশ, শীর্ষেন্দু, যোগেন, বাণী, সুচিত্রার স্বপ্নের পাশাপাশি বিড়িশ্রমিক, পেশাদার খুনি, লঞ্চচালক বা মালগাড়ির গার্ডের স্বপ্নে। এই বই অতীত আর বর্তমানের স্বপ্নের এক সম্ভব-অসম্ভবের সাঁকো। বিধ্বস্ত এক দীর্ঘ সময়ের শ্লাঘনীয় স্বপ্নলিপি শুধু নয়, পাঠক পৌঁছে যাবেন স্বপ্নদ্রষ্টা দুই কবি শঙ্খ-সুনীলের স্বপ্নচেতনার অতলে। প্রচ্ছদ সুব্রত চৌধুরী।
শ্যামল চক্রবর্তীর জন্ম উত্তরপাড়ায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে। লিখছেন ছাত্রজীবন থেকে। প্রথম বই ‘স্বপ্ন দেখেন কেন’ (আনন্দ) প্রকাশিত হওয়ামাত্র আলোড়ন তোলে পাঠকমহলে। তন্নিষ্ঠ রবীন্দ্রচর্চার ফসল ‘রবি ঠাকুরের ডাক্তারি’ ও ‘বাচ্চাদের রবীন্দ্রনাথ’ পেয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা। ছুড়ি-কাঁচির পাশাপাশি কালিকলম লেখকের পরম আশ্রয়। প্রবন্ধ, রম্যরচনা, স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখার পাশাপাশি বাচ্চাদের গল্প ও ভ্রমণকাহিনি লেখেন নিয়মিত। বর্তমান— ‘সেই সব স্বপ্ন’ লেখকের একত্রিশতম বই। বাংলাভাষায় ধারাবাহিক অবদানের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাব্দীপ্রাচীন ‘জগত্তারিণী স্বর্ণ পদক ও পুরস্কার’ পেয়েছেন ২০১৫ সালে।




